ম্যাকনিকস্ রোডস্থ দুর্গা টেম্পল প্রাঙ্গণ থেকে বিকেলে সুসজ্জিত মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়ে মন্দিরসংলগ্ন বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ ও ধর্মীয় আবেগ। শ্রীকৃষ্ণের নামসংকীর্তন, ভক্তিগীতি ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দমুখর।
শোভাযাত্রা শেষে মন্দিরের পার্কিং এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ধামাইল ও কীর্তন। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ সময় ধরে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় রোববারের উদয়াস্ত মহা সংকীর্তনের শুভ অধিবাস।

রোববার ব্রহ্মমুহূর্ত থেকে দুর্গা টেম্পলে শুরু হবে বার্ষিক উদয়াস্ত মহা সংকীর্তন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে কীর্তন পরিবেশন করবে সপ্তসুরের রাগিনী, কৃষ্ণ ভক্ত সম্প্রদায়, সৎসঙ্গ মিশিগান, দুর্গা টেম্পল ভক্তবৃন্দ, মহানাম সম্প্রদায় ও স্মরণিকা সম্প্রদায়।
এছাড়া পদাবলী কীর্তন পরিবেশন করবেন বিশ্বজিৎ পুরকায়স্থ (রূপক) ও জিতেন্দ্র গোপ। সারাদিনব্যাপী কীর্তন, নামসংকীর্তন ও ভক্তিমূলক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব। দিনব্যাপী কীর্তন শেষে সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী দধির ভাণ্ড ভঙ্গের মধ্য দিয়ে উদয়াস্ত মহা সংকীর্তনের সমাপ্তি হবে।
জন্মাষ্টমী ও উদয়াস্ত কীর্তন উপলক্ষে মন্দিরে আগত ভক্তদের আপ্যায়নের জন্যও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে দুর্গা টেম্পলের সভাপতি পংকজ দাশ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও জন্মাষ্টমী ও উদয়াস্ত কীর্তন উপলক্ষে শনিবার রাতে এবং রোববার দুপুর ও রাতে মন্দিরে আগত ভক্তবৃন্দের জন্য বিশেষ প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসে বসেও ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় করবে এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান আনন্দঘন ও সার্থক হয়ে উঠবে।
\

হারান কান্তি সেন :